West Bengal Class 11 H.S 2nd Semester Geography Chapter 3 Answer | পশ্চিমবঙ্গ একাদশ শ্রেণী (H.S.) দ্বিতীয় সেমিস্টার ভূগোল ৩ অধ্যায়ের উত্তর | WBCHSE Class 11 H.S 2nd Semester Geography Chapter 3 Answer | WBCHSE Class H.S 2nd Semester Geography Chapter 3 আবহাওয়া ও জলবায়ু Question Answer |

 Chapter 3

আবহাওয়া ও জলবায়ু

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর [TYPE- I]

1. বায়ুমণ্ডল কী কী পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয়?

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিঃ বায়ুমণ্ডল প্রধানত পরিবহণ, পরিচলন, বিকিরণ— এই তিনটি পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয়। এ ছাড়াও অ্যাডভেকশন, প্রত্যক্ষ ও প্রতিফলিত সৌর বিকিরণ শোষণ, ভূগর্ভস্থ তাপ, লীনতাপ সংযোজন, আগ্নেয়গিরি নির্গত তাপ প্রভৃতি কারণেও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়।

2. পরিচলন পদ্ধতি বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ধারণাঃ ভূপৃষ্ঠসংলগ্ন উন্ন বায়ু প্রসারিত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং চারপাশের শীতল ভারী বায়ু ওই শূন্যস্থান পূরণ করতে এসে উষ্ণ ও হালকা হয়ে পুনরায় ওপরে উঠে যায়। এইভাবে বায়ুর উল্লম্ব সঞ্চলন তথা চক্রাকার আবর্তনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পরিচলন পদ্ধতি বলে। বৈশিষ্ট্য: পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ায় এই প্রক্রিয়া নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।

3. পরিবহণ পদ্ধতি বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ধারণা: যে পদ্ধতিতে কোনো পদার্থের উন্নতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চলিত হয় কিন্তু পদার্থের অণুগুলি স্থান পরিবর্তন করে না, সেই পদ্ধতিকে পরিবহণ পদ্ধতি বলে। 

বৈশিষ্ট্য: (i) এই প্রক্রিয়ায় উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠসংলগ্ন বায়ুস্তর থেকে ক্রমান্বয়ে ওপরের বায়ুস্তরে তাপ সঞ্চলিত হয়। (ii) পরিবহণ প্রক্রিয়া মূলত দিনের বেলায় ঘটে থাকে।

4. বিকিরণ পদ্ধতি বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ধারণা: যে পদ্ধতিতে কোনো মাধ্যম ছাড়াই বা মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত না করে তাপ এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে চলে যায়, সেই পদ্ধতিকে বিকিরণ পদ্ধতি বলে। 

বৈশিষ্ট্য: (i) ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপে আসা সূর্যতাপে উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ দীর্ঘ তরঙ্গরূপে তাপ বিকিরণ করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। (ii) মেঘহীন পরিষ্কার আকাশে তাপ বিকিরণ দ্রুত হয়।

5. ইনসোলেশন কী?

উত্তরঃ ধারণা: ইংরেজিতে incoming solar radiation-কে সংক্ষেপে ইনসোলেশন (insolation) বলে। সূর্য থেকে বিকিরিত শক্তির প্রায় 200 কোটি ভাগের এক ভাগ ক্ষুদ্র আলোকতরঙ্গরূপে পৃথিবীতে এসে পৌঁছোয়। এই ক্ষুদ্র আলোকতরঙ্গকে সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল বা আগত সৌর বিকিরণ বা ইনসোলেশন বলে।

6. কার্যকরী সৌর বিকিরণ কী?

উত্তরঃ সংজ্ঞা: পৃথিবীতে আগত সৌর বিকিরণের প্রায় 35 শতাংশ (ভিন্ন মতে 34 শতাংশ) ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানে প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। বাকি 65 শতাংশের (ভিন্ন মতে 66 শতাংশ) মধ্যে 14 শতাংশ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদান, যেমন জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা প্রভৃতি প্রত্যক্ষভাবে শোষণ করে নেয় এবং 51 শতাংশ ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছোয় ও ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। সুতরাং, পৃথিবীতে আগত সৌর বিকিরণের শতকরা মাত্র (14+51) 65 ভাগের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়। তাই এই 65 শতাংশই হল কার্যকরী সৌর বিকিরণ।

7. অ্যালবেডো কী?

উত্তরঃ সংজ্ঞা: সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত মোট সৌর বিকিরণের শতকরা 35 ভাগ (ভিন্ন মতে 34 ভাগ) বৃহৎ তরঙ্গরূপে মহাশূন্যে ফিরে যায় এবং এর দ্বারা ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হতে পারে না। একে পৃথিবীর অ্যালবেডো বলে।

৪. অ্যালবেডোর 35% সৌরকিরণ কার মাধ্যমে, কত পরিমাণে প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়?

উত্তরঃ পৃথিবীর অ্যালবেডোর বিভাজন: পৃথিবীর 35 শতাংশ অ্যালবেডোর মধ্যে 27 শতাংশ মেঘপুঞ্জ থেকে, 6 শতাংশ বায়ুমণ্ডল থেকে এবং 2 শতাংশ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়।

9. অ্যাডভেকশন কী?

উত্তরঃ সংজ্ঞা: ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে অনুভূমিকভাবে বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে উন্ন অঞ্চল থেকে শীতল অঞ্চলের দিকে তাপ সঞ্চলিত হয়। এই পদ্ধতিকে অ্যাডভেকশন বলে। একইভাবে শীতল অঞ্চলের বায়ু উয় অঞ্চলে এলে সেই অঞ্চলের তাপমাত্রা কমে যায়। 

বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে তাপ পরিবাহিত হয়ে থাকে।

10. পৃথিবীর উত্তাপের সমতা কীভাবে বজায় থাকে?

উত্তরঃ পৃথিবীর উত্তাপের সমতা বজায় থাকার পদ্ধতি: সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত সৌররশ্মির বা সূর্যরশ্মির তাপীয় ফলের 35% (ভিন্ন মতে 34%) পৃথিবীকে উত্তপ্ত না করেই মহাশূন্যে ফিরে যায়। বাকি 65% (ভিন্ন মতে 66%) রশ্মি বা কার্যকারী সৌরবিকিরণ পৃথিবীকে ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপে উত্তপ্ত করলেও রাতের বেলা পুনরায় দীর্ঘ তরঙ্গরূপে মহাশূন্য ফিরে যায়। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার হ্রাসবৃদ্ধি হয় না ও পৃথিবীতে উত্তাপের সমতা বজায় থাকে।

11. উষ্ণতার নিয়ন্ত্রক বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ধারণা: পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বত্র সমান নয়। অনেকগুলি বিষয়ের ওপর পৃথিবীর নানা স্থানের তাপমাত্রা নির্ভরশীল। এইসব বিষয়গুলিকে একত্রে উন্নতার নিয়ন্ত্রক বলে। উয়তার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক: অক্ষাংশ, ভূমির উচ্চতা, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত প্রভৃতি ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশের উন্নতার নিয়ন্ত্রক।

12. কোনো স্থানের বায়ুর উন্নতার তারতম্যের যে-কোনো ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করো।

উত্তরঃ  বায়ুর উন্নতার তারতম্য হওয়ার কারণ: বায়ুর উন্নতার তারতম্য হয় বিভিন্ন কারণে। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি কারণ হল- (i) অক্ষাংশ, (ii) ভূমির উচ্চতা, (iii) স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন, (iv) বায়ুপ্রবাহ, (v) সমুদ্রস্রোত এবং (vi) ভূমির ঢাল।

13. উষ্ণতা পরিমাপের এককগুলি কী?

উত্তরঃ উষ্ণতা পরিমাপের একক: উষ্ণতা পরিমাপের প্রধান এককগুলি হল-(i) ডিগ্রি সেলসিয়াস (সে) এবং (ii) ডিগ্রি ফারেনহাইট (‘ফা)।

14. ‘উষ্ণতার স্বাভাবিক হ্রাস হার’ বা ‘উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক হার’ বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ উষ্ণতার স্বাভাবিক হ্রাসের হার: সূর্যতাপে প্রথমে ভূপৃষ্ঠ উষ্ণ হয় এবং তারপর ওই উষ্ণ ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকির্ণ হয়ে বায়ুমন্ডলকে উষ্ণ করে। এজন্য ভূপৃষ্ঠ থেকে ক্রমশ ওপরের দিকে উষ্ণতা হ্রাস পায়। অর্থাৎ উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতার এই হ্রাসকে উষ্ণতার স্বাভাবিক হ্রাস হার (normal lapse rate of temperature) বলা হয়। উষ্ণতার স্বাভাবিক হ্রাসের হার প্রতি 1000 মিটার বা 1 কিলোমিটার উচ্চতায় প্রায় 6.4 °সে। উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস পায় বলেই উচ্চস্থান শীতল হয় এবং সুউচ্চ পর্বতশিখর তুষারাবৃত থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উষ্ণতার হয়। স্বাভাবিক হ্রাস হার কেবল বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে পরিলক্ষিত

15. উষ্ণতার প্রসর বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ধারণা: কোনো স্থানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার পার্থক্যকে উষ্ণতার প্রসর বলে। দৈনিক উষ্ণতার প্রসর: কোনো দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার পার্থক্যকে দৈনিক উয়তার প্রসর বলে। মাসিক উন্নতার প্রসর: একইভাবে মাসিক গড় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উন্নতার পার্থক্যকে মাসিক উন্নতার প্রসর বলে। বার্ষিক উন্নতার প্রসর: কোনো বছরের গড় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উন্নতার মান দুটির পার্থক্যকে বার্ষিক উন্নতার প্রসর বলে।

16. তাপমাত্রার প্রসরের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তরঃ তাপমাত্রা প্রসরের বৈশিষ্ট্য: তাপমাত্রার প্রসরের বৈশিষ্ট্যগুলি হল- (i) নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর তাপমাত্রার প্রসর সবচেয়ে কম। (ii) উচ্চ অক্ষাংশে তাপমাত্রার প্রসর সবচেয়ে বেশি। (iii) একই অক্ষাংশে জলভাগের ওপর তাপমাত্রার প্রসর কম কিন্তু স্থলভাগের ওপর তাপমাত্রার প্রসর বেশি হয়।

17. দৈনিক গড় উষ্ণতা বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ধারণা: কোনো স্থানে দিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন উষ্ণতার যোগফলকে 2 দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায়, সেই ভাগফলই হল ওই স্থানের দৈনিক গড় উষ্ণতা, অর্থাৎ এটি হল দিনের সর্বোচ্চ উষ্ণতা ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার মধ্যমান। উদাহরণ: কোনো দিনের সর্বোচ্চ উষ্ণতা 30 °সে এবং সর্বনিম্ন উষ্ণতা 16°সে, তবে সেখানকার গড় উষ্ণতা হবে

30+162=462=23সে।

✏️

এই Post টো Update কৰাত সহায় কৰিব বিচাৰে নেকি?

ইয়াত কিবা ভুল, অসম্পূৰ্ণ তথ্য বা নতুন তথ্য থাকিলে আপুনি এটা উন্নত version প্ৰস্তুত কৰিব পাৰে। Live Post তৎক্ষণাৎ সলনি নহ'ব।

Update This Post

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top