West Bengal Class 11 H.S 2nd Semester Bangla Chapter 13 Answer | পশ্চিমবঙ্গ একাদশ শ্রেণী (H.S.) দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা ১৩ অধ্যায়ের উত্তর | WBCHSE Class 11 H.S 2nd Semester Bangla Chapter 13 Answer | WBCHSE Class H.S 2nd Semester Bangla Chapter 13 বাংলা সাময়িকপত্রের উদ্ভব ও বিকাশ Question Answer | 2026

 Chapter 13

বাংলা সাময়িকপত্রের উদ্ভব ও বিকাশ

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নঃ ১ ভারতে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা কোনন্টি এবং এটি কার উদ্যোগে প্রকাশ পায়? ‘দিগ্দর্শন’ থেকে ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পর্যন্ত বাংলা সাময়িকপত্রধারার সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করো।

উত্তরঃ প্রথম পত্রিকা, যার উদ্যোগে: ভারতবর্ষে সাময়িকপত্রের সূচনা ঘটে খ্রিস্টান মিশনারিদের হাত ধরে। ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জানুয়ারি জেম্স অগাস্টাস হিকির উদ্যোগে ‘বেঙ্গল গেজেট’ নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।

সাময়িকপত্রের পথ চলা: ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় ‘দিগদর্শন’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। বলা বাহুল্য, এই পত্রিকার মধ্য দিয়েই বাংলা সাময়িকপত্রের পথ চলা শুরু। উক্ত বছরের ২৩ মে, শ্রীরামপুর মিশন থেকে তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সমাচার দর্পণ’। পত্রিকাটিতে খ্রিস্টধর্মের মহিমা প্রচারিত হত। এইসময় হরচন্দ্র রায় ও গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘বাঙ্গাল গেজেটি’ পত্রিকাটি বাংলা ভাষার সাংবাদিকতার জগতে বাঙালিদের প্রথম উদ্যোগ। তবে পত্রিকাটির কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি।

১৮২১ খ্রিস্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর তারাচাঁদ দত্ত ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সম্বাদ কৌমুদী’ পত্রিকাটি। পত্রিকাটির কর্ণধার ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। ওই বছরেই রাজা রামমোহন রায় ‘ব্রাহ্মণ সেবধি’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন যাতে ধর্ম ও দর্শন সংক্রান্ত রচনা প্রকাশিত হত। ১৮২২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে রক্ষণশীল হিন্দুদের মুখপত্র হিসেবে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ নামক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। ওই পত্রিকাটিতে রামমোহন রায়ের সতীদাহপ্রথা নিবারণের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে কলম ধরা হয়।

প্রশ্নঃ ২ বাংলা সাহিত্যে সাময়িক পত্রপত্রিকার অবদান আলোচনা করো।

উত্তরঃ সাময়িকপত্রের অবদান: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে বাংলা গদ্যের উদ্ভব ও বিকাশের পথ ধরে ছাপাখানার প্রচলন এবং সাময়িকপত্র প্রকাশের গতি ত্বরান্বিত হয়। একটি পত্রে বহু মানুষের মতপ্রকাশ, ভাবের আদানপ্রদান, আলোচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যবোধের বিকাশ ঘটতে দেখা যায়। সাময়িকপত্রের আবির্ভাবে একাধিক লেখকের বহু লেখার সংকলন পৌঁছে গেল সাধারণের হাতে। ভাবপ্রকাশের ভাষা ক্রমে হল সরল ও সহজবোধ্য। সাহিত্যের অগ্রগতি ঘটল চূড়ান্তভাবে। বাংলা ভাষায় মুদ্রিত ও প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা ‘দিগদর্শন’, এরপর ‘বাঙ্গাল গেজেটি’, ‘সমাচার দর্পণ’, ‘ব্রাহ্মণ সেবধি’, ‘সম্বাদ কৌমুদী’ ও ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকা পরপর প্রকাশিত হয়। কবি ঈশ্বর গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ (১৮৩১) প্রথম ভারতীয় তথা বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সংবাদ পরিবেশনকারী দৈনিক পত্রিকা। এই পত্রিকার পৃষ্ঠাতেই সম্পাদক প্রাচীন বাংলার লুপ্তপ্রায় কাব্য-কবিতার পরিচয় তুলে ধরেন। কবিওয়ালাদের গান ও পাঁচালিকারদের জীবনী ও রচনাবলি এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে শুরু করে। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার শক্তিশালী লেখক-গোষ্ঠীর চেষ্টায় বাঙালি জাতির রুচি ও সৃষ্টিশীলতা এক বিশেষ মাত্রা পায়। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় সাহিত্য ও সমালোচনার উপযুক্ত ভাষা ও আদর্শ সৃষ্টি করা হয়। সৃজনশীল রচনা ছাড়া সাহিত্য বিষয়ক নব নব রচনা, সাহিত্যকে উপহার দিয়েছে এই পত্রিকা। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে প্রকাশিত ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা বাংলা চলিতভাষাকে সম্পূর্ণভাবে সাহিত্যের ভাষায় পরিণত করে। সজনীকান্ত দাসের ‘শনিবারের চিঠি’ বাংলা সাহিত্য-সমালোচনার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী স্থান অধিকার করে আছে। এভাবে ক্রমে ক্রমে অজস্র পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়ে বাংলা সাহিত্যকে নানাভাবে পুষ্ট করতে থাকে। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল- ‘ভারতী’, ‘বিচিত্রা’, ‘প্রবাসী’, ‘সাধনা’, ‘কালিকলম’, ‘পরিচয়’ ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ ৩ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকপত্রের নাম ও প্রকাশকাল উল্লেখ করে সংক্ষেপে এটির অবদান আলোচনা করো। বাংলা সাময়িকপত্রের যুগে সমাচার দর্পণ’ পত্রিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এটির অবদানই বা কী?

উত্তরঃ প্রথম সাময়িকপত্র ও প্রকাশকাল: বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকপত্র হল দিগদর্শন (মাসিক পত্র)। এটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়।

পত্রিকাটির অবদান: বাংলা সাময়িকপত্রের আত্মপ্রকাশ ‘দিগদর্শন’ পত্রিকাকে কেন্দ্র করেই। পত্রপত্রিকার ইতিহাসে এই পত্রিকার যে বিশেষ ভূমিকা বা অবদান লক্ষ করা যায়, তা নিম্নরূপ-

  • পত্রিকাটি তৎকালীন যুবসম্প্রদায়ের উদ্দেশে নানান উপদেশ এবং তথ্য প্রচার করত।
  • পত্রিকাটির মাধ্যমে স্কুলপাঠ্য হিসেবে ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত ধারণা বা তথ্য প্রকাশ পেত।
  • স্কুলপাঠ্যের উপকরণ থাকার দরুন স্কুল বুক সোসাইটি এই পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার বহুসংখ্যক কপি ক্রয় করত।

সমাচার দর্পণ পত্রিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য: জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সমাচার দর্পণ’ (১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মে) প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্মকর্মের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে হিন্দুধর্মের বিলুপ্তি ঘটানো। পরিবর্তে, এই পত্রিকাকে হাতিয়ার করে তারা খ্রিস্টধর্মের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।

সমাচার দর্পণ-এর অবদান: বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকাটি বিশেষ কৃতিত্বের দাবি রাখে। সে সম্পর্কে আলোচনা করা হল-

  • এই পত্রিকায় দেশ-বিদেশের সংবাদ ছাড়াও প্রাচীন যুগের ইতিহাসের বিবরণও প্রকাশিত হত।
  • এই পত্রিকাতেই প্রথম তৎকালীন ‘বাবু’ সম্প্রদায়ের খণ্ড উপাখ্যানগুলি প্রকাশ পেতে থাকে।
  • ‘সমাচার দর্পণ’-এ প্রকাশিত রচনাগুলির মাধ্যমে জ্ঞানমূলক চেতনার বিকাশ ঘটে।
  • এই পত্রিকায় এমনসব লেখা প্রকাশিত হত, যেগুলির সঙ্গে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল।
  • পত্রিকাটিতে কখনো-সখনো হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং খ্রিস্টধর্মের সপক্ষে কিছু রচনা প্রকাশিত হত।

প্রশ্নঃ ব্রায়ণ সেবধি’ ও ‘সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকা দুটির প্রকাশকাল-সহ সম্পাদকের নাম লেখো। সাময়িকপত্রের ধারায় ‘ব্রাত্মণ সেবধি পত্রিকার অবদান ও সম্বাদ কৌমুদী’ পত্রিকার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ ব্রাহ্মণ সেবধি-র প্রকাশকাল ও সম্পাদক: রাজা রামমোহন রায়ের (শিবপ্রসাদ রায় ছদ্মনামে) সম্পাদনায় ১৮২১ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ‘ব্রাহ্মণ সেবধি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

সম্বাদ কৌমুদী-র প্রকাশকাল ও সম্পাদক: ১৮২১ খ্রিস্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুযোগ্য সহযোগিতা ও সম্পাদনায় ‘সম্বাদ কৌমুদী’ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির প্রকাশক ছিলেন তারাচাঁদ দত্ত এবং রামমোহন রায় ছিলেন এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

ব্রাহ্মণ সেবধি-র অবদান: সাময়িক পত্রিকার ধারায় ‘ব্রাহ্মণ সেবধি’ পত্রিকাটির বিশেষ অবদান রয়েছে। সেগুলি হল-

  • এই পত্রিকার পাতায় রামমোহন ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক নানারকম প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।
  • পত্রিকাটিতে খ্রিস্টধর্ম এবং বহু ঈশ্বরবাদী হিন্দুর প্রতি রামমোহনের তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ পায়।
  • পত্রিকাটির মাধ্যমে রামমোহন সবরকম অলৌকিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন।

সম্বাদ কৌমুদী-র বৈশিষ্ট্য: এই পত্রিকার বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

  • ধর্ম-দর্শন-বিজ্ঞান-রাষ্ট্র সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নানা খবর এই পত্রিকায় প্রকাশিত হত।
  • লোকহিতসাধনই ছিল এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য।
  • একদা পত্রিকাটি ছিল ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র।
  • রামমোহন সহজসরল ভাষায় মিশনারিদের হিন্দুধর্মের বিরোধিতার জবাব দিতেন, যার বিষয় পাঠকের মন অতি সহজেই জয় করেছিল।

প্রশ্নঃ ৫ গোঁড়া হিন্দুদের মুখপত্র হিসেবে কোন্ পত্রিকা প্রকাশিত হয় এবং এই পত্রিকায় কী ধরনের লেখা প্রকাশিত হত? পত্রিকাটির জনপ্রিয়তার কারণ উল্লেখ করো।। 

পত্রিকা: ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় গোঁড়া বা রক্ষণশীল হিন্দু সম্প্রদায়ের মুখপত্রস্বরূপ ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ (১৮২২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ) পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

যে ধরনের লেখা: এই পত্রিকার পাতায় যে ধরনের লেখা প্রকাশিত হত, সেগুলি হল-

(ক) রামমোহনের সতীদাহপ্রথা নিবারণের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

(খ) রঙ্গব্যঙ্গমূলক রচনার পাশাপাশি রক্ষণশীল হিন্দুসমাজের বিবরণধর্মী ও সমাজসমস্যা বিষয়ক বহু লেখা প্রকাশ পেতে থাকে।

জনপ্রিয়তার কারণ: ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাচীনপন্থী ছিলেন। তথাপি সেই সময়কার নাগরিক জীবনকে ব্যঙ্গবিদ্রুপের ভঙ্গিতে তুলে ধরেছিলেন তাঁর ‘নববাবুবিলাস’ ও ‘নববিবিবিলাস’ গ্রন্থদ্বয়ের মাধ্যমে, যেগুলি এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর লঘু ব্যঙ্গাত্মক রচনায় তৎসম, আরবি-ফারসি শব্দের সুষম প্রয়োগের পাশাপাশি তীক্ষ্ণ ও প্রখর রসিকতা ছিল অভাবনীয়। তাঁর লেখনীতে তৎকালীন সমাজের বৈশিষ্ট্য অভিনবরূপে ফুটে ওঠায় পত্রিকাটি বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

প্রশ্নঃ ৬ সংবাদ প্রভাকর পত্রিকাটির সম্পাদকের নাম ও প্রকাশকাল উল্লেখ করে সাময়িকপত্রের ইতিহাসে পত্রিকাটির গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ সম্পাদক ও প্রকাশকাল: ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকাটি কবি ঈশ্বর গুপ্ত-র সম্পাদনায় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

গুরুত্ব: পত্রিকাটি প্রথমে সাপ্তাহিকৰূপে প্রকাশিত হলেও, পরে তা বারত্রয়িকরূপে অর্থাৎ এক সপ্তাহে তিন বার প্রকাশিত হয় এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকারূপে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে এই পত্রিকার গুরুত্ব নানা ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। যথা-

(ক) এটি ভারতীয় তথা বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।

(খ) রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ সাহিত্যিকদের পথ চলা শুরু এই পত্রিকার মাধ্যমেই।

(গ) অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, রামনিধি গুপ্ত প্রমুখ কবিদের জীবনী প্রকাশ ও কাব্যের পর্যালোচনা করা হত এই পত্রিকায়।

(ঘ) এই পত্রিকার পাতায় নিয়ম অনুসারে সংবাদ পরিবেশিত হত।

(ঙ) এই পত্রিকায় সাহিত্য ছাড়াও রাজনীতি, শিক্ষা, সমাজ এবং ধর্ম বিষয়েও বহু মননশীল রচনা প্রকাশিত হত।

(চ) এই পত্রিকার পৃষ্ঠাতেই প্রাচীন বাংলার লুপ্তপ্রায় কাব্য-কবিতার পরিচয় প্রকাশ পেতে থাকে।

(ছ) রঙ্গব্যঙ্গমূলক রচনা প্রকাশেও এর গুরুত্ব অসীম। এই পত্রিকাটির মাধ্যমেই বিখ্যাত ‘কালেজীয় কবিতা-যুদ্ধ’ আয়োজিত হয়েছিল।

প্রশ্নঃ ৭ জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকাটির সম্পাদকের নাম-সহ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ‘জ্ঞানোদয় পত্রিকা এবং ‘বিজ্ঞান সেবধি পত্রিকার গুরুত্ব আলোচনা করো। 

উত্তরঃ সম্পাদক: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ‘জ্ঞানান্বেষণ’ (সাপ্তাহিক) পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। বৈশিষ্ট্য: ‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকাটির বৈশিষ্ট্য হল-

(ক) উনিশ শতকের বাংলাদেশে প্রগতিশীল ভাবনার বাহক ছিল এই পত্রিকা।

(খ) এই পত্রিকায় হিন্দু নারীদের বেদ অধ্যয়ন ও শ্রবণে নিষিদ্ধকরণের বিরোধিতা করে বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

জ্ঞানোদয় পত্রিকার গুরুত্ব: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে রামচন্দ্র মিত্র। ও কৃয়ধন মিত্রের যৌথ সম্পাদনায় ‘জ্ঞানোদয়’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকাটি কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার, সেগুলি হল-

(ক) সাময়িকপত্রের যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক এটিই প্রথম পত্রিকা।

(খ) পত্রিকাটিতে পুরাবৃত্ত, জীবনচরিত প্রকাশের পাশাপাশি প্রাণীবৃত্তা সম্পর্কিত নানা প্রবন্ধ প্রকাশিত হত।

(গ) এই পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত নীতিকথা, ইতিহাস, ভূগোলের নানান তথ্য বালকদের মনোরঞ্জন ঘটাত।

বিজ্ঞান সেবধি-র সংক্ষিপ্ত পরিচয়: বাংলা গদ্যের ইতিহাসে অন্যানা সাময়িকপত্রের মতো ‘বিজ্ঞান সেবধি’ (মাসিকপত্র) পত্রিকারও এক বিশো গুরুত্ব রয়েছে। হিন্দু কলেজের ছাত্র গঙ্গাচরণ সেন ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে পত্রিকা প্রকাশ করেন। মূলত ওই কলেজের ছাত্রগোষ্ঠীই পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। পত্রিকাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানচর্চা। বলা বাহুলা, এ মধ্য দিয়েই বাংলা গদ্যে বিজ্ঞান বিষয়ক নানা রকমের প্রস্তাব উত্থাপিত হা

✏️

এই Post টো Update কৰাত সহায় কৰিব বিচাৰে নেকি?

ইয়াত কিবা ভুল, অসম্পূৰ্ণ তথ্য বা নতুন তথ্য থাকিলে আপুনি এটা উন্নত version প্ৰস্তুত কৰিব পাৰে। Live Post তৎক্ষণাৎ সলনি নহ'ব।

Update This Post

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top