West Bengal Class 11 H.S 2nd Semester Political Science Chapter 5 Answer | পশ্চিমবঙ্গ একাদশ শ্রেণী (H.S.) দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৫ অধ্যায়ের উত্তর | WBCHSE Class 11 H.S 2nd Semester Political Science Chapter 5 Answer | WBCHSE Class H.S 2nd Semester Political Science Chapter 5 মৌলিক অধিকারের অর্থ ও প্রকৃতি, নির্দেশমূলক নীতি ও মৌলিক কর্তব্যসমূহ Question Answer |

 Chapter 5

মৌলিক অধিকারের অর্থ ও প্রকৃতি, নির্দেশমূলক নীতি ও মৌলিক কর্তব্যসমূহ

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর

1. অধিকারের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করো।

উঃ অধিকারের সংজ্ঞা: সুখী জীবনযাপন করার জন্য বা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য এমন কিছু সুযোগসুবিধা মানুষের থাকা দরকার যেগুলি তার কাছে একান্তভাবেই অপরিহার্য। কারণ, সেগুলি ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকাশ সম্পূর্ণ হয় না। ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী বাহ্যিক এই সুযোগসুবিধাগুলিই হল অধিকার।

অধিকারের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রচিন্তাবিদ তাঁদের বক্তব্য রেখেছেন-

★ অ্যারিস্টটল: অ্যারিস্টলের মতে, মানুষ হল প্রকৃতিগতভাবে সমাজবদ্ধ জীব। সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষ যে-সমস্ত সুযোগসুবিধা ভোগ করে সেগুলিকে অধিকার বলে। অধিকার কোনো নেতিবাচক ধারণা নয়।

★ হ্যারল্ড ল্যাস্কি: হ্যারল্ড ল্যাস্কির মতে, অধিকার হল সামাজিক জীবনের সেই সমস্ত শর্তাবলি, যা এছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ আত্মোপলব্ধি সম্ভব নয়।

★ গিলক্রিস্ট: গিলক্রিস্ট মনে করেন, অধিকার হল রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত সেই সমস্ত সুযোগসুবিধা, যার সাহায্যে ব্যক্তির বিকাশ ও সমাজের কল্যাণ সাধিত হয়।

★ আর্নেস্ট বার্কার: আর্নেস্ট বার্কার মনে করেন, রাষ্ট্র ও তার আইন কর্তৃক স্বীকৃত দাবিই হল অধিকার। অধিকারের প্রধান কথা হল ব্যক্তির অন্তর্নিহিত নৈতিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ।

★ হব্রহাউস: হবহাউসের মতে, আমরা একে অপরের থেকে যা প্রত্যাশা করি, সেটাই অধিকার।

অধিকারের পিছনে সামাজিক অনুমোদন থাকে।

2. অধিকারের রূপগুলি বা প্রকারভেদ আলোচনা করো। [WBCHSE (XI) ’08]

উত্তরঃ অধিকারের বিভিন্ন রূপ বা প্রকারভেদ: অধিকারকে মূলত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় যথা- 1.  নৈতিক অধিকার (Moral Rights) এবং 2. আইনগত অধিকার (Legal Rights)।

★ নৈতিক অধিকার: মানুষের নৈতিক সত্তার বিবেকসম্মত দাবিই হল নৈতিক অধিকার। এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত নয় বা এই অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো শাস্তি দিতে পারে না।

★ আইনগত অধিকার: রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সরকার দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত যেসকল সুযোগসুবিধা নাগরিকগণ ভোগ করে, তাকে আইনগত অধিকার বলে। রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এই অধিকারকে ভঙ্গ করার অর্থ রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করা।

প্রকৃত বিচারে আইনগত অধিকারের আরও চারটি রূপ হল-

★ পৌর অধিকার: পৌর বা নগরজীবনে বসবাসের জন্য মানুষ যেসকল অধিকার ভোগ করে থাকে, তাকে পৌর অধিকার বলা হয়।

★ সামাজিক অধিকার: ব্যক্তির সামাজিক বিকাশের জন্য যেসকল সুযোগসুবিধা একান্তভাবে অপরিহার্য, তাকে সামাজিক অধিকার বলা হয়।

★ রাজনৈতিক অধিকার: রাষ্ট্র হল মানুষের রাজনৈতিক জীবনের অভিব্যক্তি। তাই রাষ্ট্রের গঠন ও কার্যকলাপ সম্পর্কিত প্রত্যেকটি অধিকারই নাগরিকরা ভোগ করে থাকে। এই অধিকারগুলিই নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকাররূপে পরিচিত।

★ অর্থনৈতিক অধিকার: অর্থনৈতিক অধিকার বলতে আমরা সেই সকল অধিকারকে বুঝি, যেগুলি মানুষকে দারিদ্র্য এবং অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে দৈনন্দিন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নিরাপদ করে গড়ে কতোলে। অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া পৌর, ও রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারগুলি নিতান্তই অর্থহীন হয়ে পড়ে।

মূল্যায়ন: উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার অধিকারগুলি সম্বন্ধে জানা গেলেও মনে রাখতে হবে যে, অধিকারের শ্রেণিবিভাগগুলি কোনো ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত নয়। একটি অধিকার অপর একটি অধিকারের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে অনেকসময় তাদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

3. পৌর অধিকার কাকে বলে? পৌর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অধিকারগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।** [WBCHSE (XI) 14/

উঃ পৌর অধিকার: যেসকল সুযোগসুবিধা ব্যতীত মানুষের পক্ষে সভ্য সামাজিক জীবনযাপন করা সম্ভব নয়, তাকে পৌর অধিকার (Civil Rights) ও বলে। ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য পৌর অধিকার একান্তভাবে অপরিহার্য।

বিভিন্ন পৌর অধিকারসমূহ:

★ বাঁচার অধিকার: মানুষের বাঁচার অধিকার (Right to Life) হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক অধিকার। বাঁচার অধিকার বলতে আত্মরক্ষার অধিকার এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের অধিকারকেও বোঝায়।

★ স্বাধীনতার অধিকার: আধুনিক রাষ্ট্রে ব্যক্তিসত্তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য অন্যতম প্রধান অধিকার হল স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom)। এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলি হল- চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার, স্বাধীনভাবে সংঘ বা সমিতি গঠন করার অধিকার, স্বাধীন পেশা বা বৃত্তির অধিকার, স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার, সভা-সমাবেশে স্বাধীনভাবে যোগদান করার অধিকার এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার বা আটক না হওয়ার অধিকার প্রভৃতি।

★ সম্পত্তির অধিকার: সম্পত্তির অধিকার (Right to Property) বলতে ব্যক্তির সম্পত্তি অর্জন, ভোগদখল এবং সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, সম্পত্তি দান ও সম্পত্তি হস্তান্তর প্রভৃতি অধিকারকে বোঝায়।

★ পরিবার গঠনের অধিকার: পরিবার গঠনের অধিকার (Right to Family) মানুষের একটি প্রাচীন পৌর অধিকার। অ্যারিস্টট্ল-এর মতে, পরিবার গঠন হল সমাজজীবনের মূল ভিত্তি। এই কারণে বিবাহের মাধ্যমে নাগরিকদের সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবার গঠনের অধিকার প্রতিটি রাষ্ট্রেই স্বীকৃত রয়েছে।

★ ধর্মের অধিকার: ধর্মের অধিকার (Right to Religion) আধুনিক রাষ্ট্রে একটি স্বীকৃত পৌর অধিকার। এই অধিকারের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় আচার-আচরণ ও ধর্মপ্রচারের স্বাধীনতায় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কোনোরকম হস্তক্ষেপ করে না। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব ধর্মের অধিকার সমান, রাষ্ট্র কোনো ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না। ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ বহুকাল থেকে স্বীকৃত রয়েছে।

4. রাজনৈতিক অধিকার কাকে বলে? রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অধিকারগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।** (WBCHSE (XI) ’14)

উত্তর: রাজনৈতিক অধিকার: রাষ্ট্র হল মানুষের রাজনৈতিক জীবনের অভিব্যক্তি। তাই রাষ্ট্রের গঠন ও কার্যকলাপ সম্পর্কিত প্রত্যেকটি অধিকার নাগরিকের রয়েছে। এই অধিকারগুলিই নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকাররূপে পরিচিত। বার্কার বলেছেন, নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির প্রাপ্ত বা অর্জিত অধিকারই হল রাজনৈতিক অধিকার।

রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অধিকার: রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত অধিকারগুলি নিম্নরূপ-

★ ভোটদানের অধিকার: ভোটদানের অধিকার } ছাড়া রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে জনগণের যোগসূত্র স্থাপিত হতে পারে না। একমাত্র স্বাধীন এবং অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে রাষ্ট্রের পরিচালন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারে। সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটদান করার অধিকার গণতন্ত্রের মৌল ভিত্তি রচনা করে।

★ নির্বাচিত হওয়ার অধিকার: নির্বাচিত হওয়ার অধিকার ছাড়া নির্বাচনের অধিকার পূর্ণ হতে পারে না। জনগণ পরোক্ষ প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে না বলেই ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে।

★ সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার: এই অধিকারের মাধ্যমে নাগরিকরা যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি ছ. চাকুরিতে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে।

★ সরকারের কাজকর্মের সমালোচনা করার অধিকার: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের কাজকর্মের সমালোচনা করার অধিকারের মূল্য অপরিসীম। কারণ সরকার এই সমালোচনার আলোকে নিজের কাজকর্মের ত্রুটি শুধরে নিয়ে সেগুলিকে প্রকৃত জনমুখী করতে পারে। তবে তার জন্য সমালোচনা হওয়া চাই নিরপেক্ষ এবং গঠনমূলক।

মূল্যায়ন: উপরোক্ত আলোচনাগুলির মাধ্যমে এই কথা বলাই যায় যে, রাজনৈতিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত অধিকারগুলির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

✏️

এই Post টো Update কৰাত সহায় কৰিব বিচাৰে নেকি?

ইয়াত কিবা ভুল, অসম্পূৰ্ণ তথ্য বা নতুন তথ্য থাকিলে আপুনি এটা উন্নত version প্ৰস্তুত কৰিব পাৰে। Live Post তৎক্ষণাৎ সলনি নহ'ব।

Update This Post

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top