অধ্যায় ৬
বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন: —————————————————
[MCQs]
1. ভারতের প্রথম শ্রমিক সংগঠন ছিল-(a) গিরনি কামগার ইউনিয়ন
(b) মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন ✔
(c) ইন্ডিয়ান মিলহ্যান্ডস্ ইউনিয়ন
(d) সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস
2. ব্রিটিশ সরকার প্রণীত শ্রমিক দমনমূলক বিল হল-
(a) শিল্প বিরোধ বিল ✔
(b) ইলবার্ট বিল
(c) রাওলাট বিল
(d) জন নিরাপত্তা বিল
3. নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল-
(a) ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে
(b) ১৯২0 খ্রিস্টাব্দে ✔
(c) ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে
(d) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে
4. ‘স্বরাজ্য দল’-এর সভাপতি ছিলেন-
(b) চিত্তরঞ্জন দাশ ✔
(c) নেতাজি
(d) মহাত্মা গান্ধি ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে
5. ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি যুক্ত ছিল-
(a) রাওলাট সত্যাগ্রহে
(b) অসহযোগ আন্দোলনে ✔ (c) বারদৌলি সত্যাগ্রহে
(d) সাইমন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনে
6. গণবাণী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
(a) কাজী নজরুল ইসলাম
(b) মুজাফফর আহমেদ ✔
(c) এস এস মিরাজকর
(d) অরবিন্দ ঘোষ
7. ‘যুব কমরেড লিগ’ কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে?
(a) এস এ ডাঙ্গের
(b) মুজাফফর আহমেদের
(c) পিসি জোশীর ✔
(d) নিম্বকারের8. ভারতের প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন হল-
(a) মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন ✔
(b) কলকাতা লেবার ইউনিয়ন
(c) মুম্বাই লেবার ইউনিয়ন
(d) দিল্লি লেবার ইউনিয়ন
9. ‘লেবার স্বরাজ পার্টি’র নাম পরিবর্তন করে কী রাখা হয়?
(a) কিষান দল
(b) পেজেন্টস পার্টি
(c) ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি ✔(d) লেবার পার্টি
10. ‘কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি’ প্রতিষ্ঠিত হয়-
(a) ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে
(b) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
(c) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ✔
d) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে
11. কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠিত হয়-
(a) ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে
(b) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ✔
(c) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে
(d) ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে
12. কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল-
(a) কলকাতায়
(b) দিল্লিতে
(c) বোম্বাইতে ✔
(d) মাদ্রাজে
13. ‘Socialist’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
(a) এস এ ডাঙ্গে ✔
(b )সন্তোষ কুমারী গুপ্তা
(c) সন্তোষ সিং
(d) মুজাফফর আহমেদ
14. বিশুবরণ প্রসাদ কী নামে সর্বাধিক পরিচিত?
(a) স্বামী শ্রদ্ধানন্দ
(c) স্বামী বিদ্যানন্দ
(b) স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী
(d) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
15. সি মার্টিন ছদ্মনাম গ্রহণ করেন-
(a) রাসবিহারী বসু
(b) নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ✔
(c) মুজাফফর আহমেদ
(d) এস এ ডাঙ্গে
16. নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য কোথায় ‘মানবেন্দ্রনাথ’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন?
(a) রাশিয়ায়
(b) জার্মানিতে
(c) আমেরিকায় ✔
(d) ব্রিটেনে
17. দেশাভিমানী বলা হয় সাম্যবাদী নেতা-
(a) মুজাফফর আহমেদকে
(b) শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গেকে
(c) রামকৃয় পিল্লাইকে ✔
(d) নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে
18. তাসখন্দে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন-
(a) মুজাফফর আহমেদ
(b) পিসি যোশী
(c) এস এ ডাঙ্গে
(d) মানবেন্দ্রনাথ রায় ✔
19. র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়-
(a) ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে
(b) ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে
(c) ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে
(d) ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে ✔
20. র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গঠন করেন-
(a) পিসি যোশী
(b) এস এ ডােঙ্গে
(c) এম এন রায় ✔
21. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ব্রিটিশ কমিউনিস্ট নেতা ছিলেন-
(a) ফিলিপ ফ্রান্সিস
(b) ফিলিপ স্প্ল্যাট ✔
(c) লেলিন
(d) স্টিফেন হেনিংহ্যাম
Short Answer Question
1. বাংলা দ্বিখণ্ডিত করার পিছনে কার্জনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
>> বাংলা দ্বিখণ্ডিত করার পিছনে কার্জনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতির ঐক্য ধ্বংস করে জাতীয় কংগ্রেস এবং ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনকে দুর্বল করা।
2. কার্জনের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে কোন্ আন্দোলন শুরু হয়?
>> লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন (১৯০৫ – ১১ খ্রি.) শুরু হয়।
3. মস্কোয় কে শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন?
>> মানবেন্দ্রনাথ রায় ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে মস্কোয় শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।4. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম চিত্রিত গ্রন্থের নাম লেখো।
>> বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম চিত্রিত গ্রন্থটি হল ১৮১৬ সালে কলকাতার ফেরিস অ্যান্ড কোম্পানির ছাপাখানা থেকে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের উদ্যোগে প্রকাশিত রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য।5. ‘গিরনি কামগার ইউনিয়ন’ কী?
>> ‘গিরনি কামগার ইউনিয়ন’ হল কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত একটি শ্রমিক সংগঠন।
6. ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি অব বেঙ্গল’-এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
» ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি অব বেঙ্গল’-এর প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন হেমন্তকুমার সরকার ও কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
7. কে ভারতীয় বিপ্লবী কমিটি গঠন করেন?
>> মানবেন্দ্রনাথ রায় বার্লিনে ভারতীয় বিপ্লবী কমিটি গঠন করেন।
৪. ভারতে প্রথম কবে ‘মে দিবস’ পালিত হয়?
» ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১মে বোম্বাইয়ে প্রথম ‘মে দিবস’ পালিত হয়।
9. স্বামী বিশ্বানন্দ ও স্বামী দর্শনানন্দ কোন্ শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
>> স্বামী বিশ্বানন্দ ও স্বামী দর্শনানন্দ রানিগঞ্জ কয়লাখনি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
10. ‘লাঙল’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
>> ‘লাঙল’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
11. ‘লেবার-কিষান গেজেট’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
>> ‘লেবার-কিষান গেজেট’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সিঙ্গারাভেল্লু চেট্টিয়ার।
12. ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম কবে, কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
> ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ার তাসখন্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
13. ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’র যুবশাখার নাম কী ছিল?
>> ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’র যুবশাখার নাম ছিল ‘যুব কমরেড লিগ’।
14. মানবেন্দ্রনাথ রায় কেন কংগ্রেস দল ত্যাগ করেন?
>> কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারা প্রসারের সম্ভাবনা না থাকায় মানবেন্দ্রনাথ রায় কংগ্রেস দল ত্যাগ করেন।
15. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা কবে শুরু হয়?
>> ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়।
16. কাদের উদ্যোগে কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল (১৯৩৪ খ্রি.) প্রতিষ্ঠিত হয়?
>> আচার্য নরেন্দ্র দেব ও জয়প্রকাশ নারায়ণের উদ্যোগে কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠা হয়।
17. কারা ‘সারা ভারত কিষান কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন?
>> কংগ্রেসের বামপন্থী অংশ, কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল ও কমিউনিস্টরা ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ‘সারা ভারত কিষান কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন।
18. ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি ও ফিলিপ স্প্যাট কোন্ মামলায় অভিযুক্ত হন?
>> ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি ও ফিলিপ স্প্যাট মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় (১৯২৯ খ্রি.) অভিযুক্ত হন।
19. সরকার কবে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে?
>> ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে সরকার কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
20. কে ‘র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’ গঠন করেন?
>> মানবেন্দ্রনাথ রায় ‘র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’ গঠন করেন।
Long Answer Question
1. ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান ধারাগুলি কী ছিল?
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রধান ধারাসমূহ
ভূমিকা: বাংলা ছিল ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের পীঠস্থান। ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতির শক্তি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসক লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ অর্থাৎ বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত করলে এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের বিভিন্ন ধারা ছিল। যেমন-
[1] বয়কট: বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে বিলাতি সামগ্রী বর্জন ও বিদেশি সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা শুরু হয়। এই ধারা ‘বয়কট’ আন্দোলন নামে পরিচিত।
[2] স্বদেশি: বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে বিলাতি পণ্য বর্জন করে তার পরিবর্তে স্বদেশি পণ্য ব্যবহার ও প্রসার, স্বদেশি শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ধারা স্বদেশি আন্দোলন নামেপরিচিত।
[3] জাতীয় শিক্ষা: আন্দোলনকারীরা ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানগুলি ত্যাগ করতে শুরু করে। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।
[4] বিপ্লবী কার্যকলাপ: বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে গুপ্ত-বিপ্লবী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার: বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের শেষপর্বে আন্দোলন সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠী লিখেছেন, “প্রকাশ্যে কংগ্রেসের মাধ্যমে এবং গোপনে বিপ্লবীদের মাধ্যমে অরবিন্দ যুগপৎ আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন। তার অনুসারীরা পুরোপুরি সন্ত্রাসবাদে ঝুঁকে পড়ে।
2. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের (১৯২০ খ্রি.) সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: অহিংস অসহযোগ আন্দোলন
ভূমিকা: নানা পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ-বিরোধী অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
[1] কারণ: অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু হওয়ার পিছনে প্রধান কারণগুলি ছিল-[i] প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন লাভে ব্যর্থতা, [ii] দেশজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, খাদ্যাভাব, [iii] দমনমূলক রাওলাট আইন পাস, [iv] জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, [v] ব্রিটিশ শক্তি কর্তৃক তুরস্কের ব্যবচ্ছেদ ও তুরস্কের সুলতানের (খলিফা) ক্ষমতা হ্রাস প্রভৃতি।
[2] আন্দোলনের সূচনা: ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। গান্ধিজি ‘স্বরাজ’ অর্জনকে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপরই সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়।
3] আন্দোলনের প্রসার: অসহযোগ আন্দোলনে ইতিবাচক অর্থাৎ গঠনমূলক এবং নেতিবাচক অর্থাৎ ধ্বংসাত্মক উভয় ধরনের কর্মপন্থা গ্রহণ করা হয়। একদিকে বিলিতি পণ্য, সরকারি স্কুলকলেজ, আদালত, আইনসভা প্রভৃতি বর্জন শুরু হয়, অন্যদিকে দেশীয় পণ্যের প্রসার, দেশীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়, হিন্দু- মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
[4]নেতৃত্ব: চিত্তরঞ্জন দাশ, মতিলাল নেহরু, বিঠলভাই প্যাটেল, বল্লভভাই প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সীতারামাইয়া প্রমুখ অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলেন।
[5] আন্দোলন প্রত্যাহার: ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে উত্তেজিত জনতা থানায় আগুন লাগিয়ে ২২ জন পুলিশকে হত্যা করলে অহিংস মতাদর্শে বিশ্বাসী গান্ধিজি আন্দোলন প্রত্যাহার (২৫ ফেব্রুয়ারি) করে নেন।
উপসংহার: গান্ধিজি চৌরিচৌরার ঘটনার ফলে আন্দোলন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে মতিলাল নেহরু, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। কেউ কেউ একে ‘জাতীয় বিপর্যয়’, ‘পর্বতপ্রমাণ ভুল’ প্রভৃতি বলে অভিহিত করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কংগ্রেস কার্যনির্বাহক সমিতি গান্ধিজির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
3. বিশ শতকে কংগ্রেসের আন্দোলনের সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলনের সম্পর্ক উল্লেখ করো।
উত্তর: কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক
ভূমিকা: বিশ শতকের শুরুর দিকে ভারতে কৃষক, শ্রমিক এবং বামপন্থী আন্দোলনেরও প্রসার ঘটে।
[1] আন্দোলনে কংগ্রেসের নেতৃত্ব: বিশ শতকে ভারতে
[i] বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি আন্দোলন (১৯০৫ খ্রি.) [ii] অহিংস অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০ খ্রি.) [iii] আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০ খ্রি.) [iv] ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২ খ্রি.)- এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে কংগ্রেস সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
[2] কৃষক আন্দোলন: বিশ শতকে ভারতের জাতীয় আন্দোলনগুলিতে কৃষক সম্প্রদায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। তারা সরকারকে খাজনা দেওয়া বন্ধ করে। কংগ্রেস দলও কৃষকদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করে।
3] শ্রমিক আন্দোলন: কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন আন্দোলনে দেশের শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করে কংগ্রেসের আন্দোলনকে জোরালো করে তোলে। কংগ্রেসি আন্দোলনের বাইরেও শ্রমিকরা ধর্মঘট, বিক্ষোভ, হরতাল প্রভৃতিতে যুক্ত হয়। কংগ্রেস এসব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়।
4] বামপন্থী আন্দোলন: বিশ শতকের দুইয়ের দশক থেকে ভারতে বামপন্থী ও কমিউনিস্ট ভাবধারা এবং আন্দোলনের যথেষ্ট প্রসার ঘটে। দেশের কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির ওপর কমিউনিস্ট দলের সর্বাধিক প্রভাব ছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সুভাষচন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহরু প্রমুখের উদ্যোগে কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও বামপন্থী ভাবধারা জনপ্রিয় হয়।
5] কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি: বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে মতভেদ লক্ষ করা যায়।
উপসংহার: বিশ শতকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী শাখা সক্রিয় হয়ে তাদের আন্দোলনে কৃষক ও শ্রমিকদের শামিল করার চেষ্টা করে। তবে কৃষক ও শ্রমিকদের ওপর কংগ্রেসের তুলনায় বামপন্থী দলগুলির বেশি প্রভাব ছিল এবং তাদের আন্দোলনেই বামপন্থী দলগুলি শক্তিশালী হয়েছিল।
4.*টীকা লেখো: মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা।
উত্তর : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২১-৩৩ খ্রি.)
ভূমিকা: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার পর ভারতে দ্রুতগতিতে কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রসার ঘটতে থাকে।
[1] কমিউনিস্টদের প্রসার: ১৯২০-এর দশকের শুরু থেকে ভারতের কমিউনিস্টরা দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ করে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে থাকে। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে কমিউনিস্ট দলের নেতৃত্বে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক যোগ দেয় এবং পূর্ণ স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়।
[2] সরকারের উদ্বেগ: কমিউনিস্ট ভাবধারা ও কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের দ্রুত প্রসারে সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কমিউনিস্টদের দমন ও শ্রমিক আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সরকার মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় বিভিন্ন কমিউনিস্ট নেতাকে জড়িয়ে দেয়।
3] মামলার রায়: ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার রায় প্রকাশিত হয়। মামলায় ৩৩ জন কমিউনিস্ট নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়। এঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুজাফফর আহমেদ, শিবনাথ ব্যানার্জি, ধরণী গোস্বামী, এস এ ডাঙ্গে, পি সি জোশী, ফিলিপ স্প্যাট, গঙ্গাধর অধিকারী প্রমুখ। মামলার রায়ে কমিউনিস্ট পার্টি ও কমিউনিস্টদের যাবতীয় প্রচারকার্য নিষিদ্ধ হয়।
উপসংহার: ব্রিটিশ সরকার ভারতে বামপন্থী আন্দোলনকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ শুরু করে। এই মামলার রায়ে ৩৩ জন গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিস্ট নেতার কারাদণ্ড হলে ভারতে বামপন্থী আন্দোলন সংকটের মুখে পড়ে। কিছুদিনের মধ্যে সরকার কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বামপন্থী আন্দোলন আপাতত স্তিমিত হয়ে পড়ে।
এই Post টো Update কৰাত সহায় কৰিব বিচাৰে নেকি?
ইয়াত কিবা ভুল, অসম্পূৰ্ণ তথ্য বা নতুন তথ্য থাকিলে আপুনি এটা উন্নত version প্ৰস্তুত কৰিব পাৰে। Live Post তৎক্ষণাৎ সলনি নহ'ব।
Update This Post