Chapter 7 –
বাংলার নবযুগ
পাঠ্যপুথির প্রশ্নোত্তর (Textbook Questions & Answers):
প্রশ্ন ১: ‘বাংলার নবযুগ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘বাংলার নবযুগ’ বলতে বোঝানো হয়েছে সেই সময়কে, যখন বাংলা সমাজে নতুন চিন্তা, নতুন আদর্শ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল। এটি উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়, যা রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ২: বাংলার নবযুগের সূচনা কিভাবে হয়েছিল?
উত্তর: ইংরেজদের আগমনের ফলে পশ্চিমা শিক্ষার প্রভাব, খ্রিষ্টীয় ধর্মের নৈতিক শিক্ষা এবং আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে বাংলার নবযুগের সূচনা হয়। এর সাথে যুক্ত ছিল সমাজ সংস্কারক ও চিন্তাবিদদের অবদান।
প্রশ্ন ৩: নবযুগে বাংলায় সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে কে প্রথম ভূমিকা রাখেন?
উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ছিলেন বাংলার নবযুগের অগ্রদূত। তিনি সতীদাহ প্রথা বন্ধ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণের জন্য কাজ করেন।
প্রশ্ন ৪: বাংলার নবযুগে শিক্ষাক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসে?
উত্তর: নবযুগে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন ঘটে, স্কুল-কলেজ স্থাপিত হয়, বিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয় এবং printing press-এর সাহায্যে বই-পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে। মানুষ শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৫: এই যুগে আর কোন কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন?
উত্তর: এই যুগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কেশবচন্দ্র সেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ ব্যক্তিরা শিক্ষার প্রসার, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখেন।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর (Additional Questions & Answers):
প্রশ্ন ৬: বাংলার নবজাগরণ বা নবযুগ কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তর: বাংলার নবযুগ ছিল একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের যুগ। এই সময়ে মানুষ কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করে যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হয়। সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৭: রাজা রামমোহন রায়ের অবদান কী ছিল?
উত্তর: তিনি সতীদাহ প্রথা বন্ধে আন্দোলন করেন, ‘ব্রাহ্ম সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করে ধর্মীয় সংস্কার করেন, ইংরেজি শিক্ষার প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা নেন এবং মহিলাদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেন।
প্রশ্ন ৮: বিদ্যাসাগর শিক্ষাক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন আনেন?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন, বিধবা বিবাহ আইন পাশ, সংস্কৃত শিক্ষার আধুনিকীকরণ এবং সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তাচেতনার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ৯: বাংলার নবযুগের সাহিত্যচর্চার বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: নবযুগে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা শুরু হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাকাব্য লেখেন, বঙ্কিমচন্দ্র উপন্যাস রচনা করেন, আর রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যকে যুক্ত করেন।
প্রশ্ন ১০: এই পাঠটি থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
উত্তর: আমরা শিখি যে একটি জাতির উন্নতির জন্য শিক্ষা, যুক্তিবাদ, মানবতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সংস্কার অপরিহার্য। অতীতের সমাজ সংস্কারকদের কাছ থেকে আমরা আজও শিক্ষা নিতে পারি।
এই Post টো Update কৰাত সহায় কৰিব বিচাৰে নেকি?
ইয়াত কিবা ভুল, অসম্পূৰ্ণ তথ্য বা নতুন তথ্য থাকিলে আপুনি এটা উন্নত version প্ৰস্তুত কৰিব পাৰে। Live Post তৎক্ষণাৎ সলনি নহ'ব।
Update This Post