Chapter 2
অদ্ভুত আতিথেয়তা
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
১.১ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন্ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
১.২ তাঁর রচিত দুটি গ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত দুটি গ্রন্থের নাম হলো ‘বোধোদয়’ এবং ‘কথামালা’।
২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :
২.১ ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে কোন্ কোন্ সেনাপতির প্রসঙ্গ রয়েছে?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে জনৈক আরব সেনাপতি এবং জনৈক মুর সেনাপতির প্রসঙ্গ রয়েছে।
২.২ ‘তিনি, এক আরব সেনাপতির পটমণ্ডপদ্বারে উপস্থিত হইয়া, আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন।’-উদ্ধৃতাংশে ‘তিনি’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিরচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটিতে ‘তিনি’ বলতে জনৈক মুর সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।
২.৩ ‘উভয় সেনাপতির কথোপকথন হইতে লাগিল।’- ‘উভয় সেনাপতি’ বলতে এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘উভয় সেনাপতি’ বলতে উদ্ধৃত প্রশ্নে আবর সেনাপতি ও মুরসেনাপতির কথা বলা হয়েছে।
২.৪ ‘তাহা হইলে আমাদের উভয়ের প্রাণরক্ষার সম্ভাবনা’- প্রাণরক্ষার কোন্ উপায় বক্তা এক্ষেত্রে বলেছেন?
উত্তর: মুর সেনাপতি দ্রুত বেগে প্রস্থান করে সূর্যোদয়ের পূর্বেই যদি আরব সেনাপতির নাগালের বাইরে চলে যেতে পারেন, তাহলে উভয়ের সংঘর্ষের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না, ফলে উভয়েরই প্রাণরক্ষা পাবে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে আরব সেনাপতি প্রাণরক্ষার এই উপায়ই ব্যক্ত করেছেন।
২.৫ ‘আপনি সত্বর প্রস্থান করুন।’ বক্তা কেন উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে ‘সত্বর প্রস্থান’ করার নির্দেশ দিলেন?
উত্তর: ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পের আলোচ্য এই অংশে বক্তা অর্থাৎ আরব সেনাপতি তাঁর অতিথি মুর সেনাপতিকে রাতের অন্ধকারে ‘সত্বর প্রস্থান’ করার নির্দেশ দিলেন। কারণ সূর্যোদয় হলেই তিনি পিতৃহন্তা মুর সেনাপতির প্রাণনাশে প্রবৃত্ত হবেন।
৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর লেখো:
৩.১ ‘তাঁহার দিভ্রম জন্মিয়াছিল।’-এখানে কার কথা বলা হয়েছে? দিভ্রম হওয়ার পরিণতি কী হল?
উত্তরের প্রথমাংশ: বাংলা গদ্যের জনক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে এক মুর সেনাপতির কথা এখানে বলা হয়েছে।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশঃ ‘দিভ্রম’ হওয়ার ফলে তিনি সঠিক দিনির্ণয় করতে পারলেন না। ক্ষুধায়, পিপাসায় ও ক্লান্তিতে অত্যন্ত পীড়িত অবস্থায় তিনি বিপক্ষ আরবসেনার শিবিরে উপস্থিত হলেন এবং আশ্রয় প্রার্থনা করলেন।
৩.২ ‘আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীতে কোনও জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে।’-এই বক্তব্যের সমর্থন গল্পে কীভাবে খুঁজে পেলে?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পের দ্বিতীয় স্তবকে বলেছেন, ‘আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীতে কোনো জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে।’ আরবজাতি অত্যন্ত অতিথিবৎসল। কেউ অতিথি হিসেবে তাঁদের গৃহে উপস্থিত হলে তাঁরা সাধ্যানুসারে সেবা-যত্ন, আদর-আপ্যায়নের চেষ্টা করেন। আলোচ্য গল্পে আরব সেনাপতির দ্বারা পিতৃহন্তা মুর সেনাপতিকে আশ্রয় দান এবং যথোচিত সম্মানপূর্বক সেবা-শুশ্রুষা প্রদান- আরবজাতির সেই মহানুভবতার পরিচায়ক।
৩.৩ ‘সহসা আরব সেনাপতির মুখ বিবর্ণ হইয়া গেল।’- আরব সেনাপতির মুখ হঠাৎ বিবর্ণ হয়ে ওঠার কারণ কী?
উত্তর: পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীতে কোনো জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে।’
পথ ভুল করে শত্রুপক্ষ আরব সেনাপতির দ্বারে উপস্থিত হয়েছিলেন ক্লান্ত-শ্রান্ত-ক্ষুধার্ত মুর সেনাপতি। ইচ্ছা করলেই সেই সময় আরব সেনাপতি তাঁকে হত্যা করতে পারতেন। তিনি তা না করে অতিথি হিসাবেই আহার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। অতঃপর বন্ধুভাবে তাঁর সঙ্গে গল্প শুরু করেন। উভয়েই নিজ পূর্বপুরুষগণের সাহস, পরাক্রম ও যুদ্ধ কৌশলের কাহিনি বলতে থাকেন। বিদ্যাসাগর লিখেছেন-
তাঁহারা, পরস্পর স্বীয় ও স্বীয় পূর্বপুরুষদিগের সাহস, পরাক্রম, সংগ্রাম কৌশল প্রভৃতির পরিচয় প্রদান করিতে লাগিলেন।
কথাপ্রসঙ্গে আরব সেনাপতি জানতে পারেন যে, আশ্রিত মুর সেনাপতি হলেন তাঁর পিতার হত্যাকারী। এই নিদারূণ সংবাদে তাঁর মনে প্রবল আক্রোশ জন্মায়। কিন্তু অতিথিবাৎসল্যের অক্ষমতায় অন্তরে যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, তার প্রভাবেই তাঁর মুখ বিবর্ণ হয়ে ওঠে।
৩.৪ ‘সন্দিহানচিত্তে শয়ন করিলেন।’ -এখানে কার মনের সন্দেহের কথা বলে হয়েছে? তাঁর মনের এই সন্দেহের কারণ কী?
উত্তরের প্রথমাংশ: বাংলা গদ্যের পথপ্রদর্শক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে মুর সেনাপতির মনের সন্দেহের কথা বলা হয়েছে।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশঃ আশ্রয়দাতা আরব সেনাপতি বন্ধুভাবে আশ্রিত মুর সেনাপতির সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। উভয়েই তাঁদের পূর্বপুরুষগণের সাহস, পরাক্রম ও যুদ্ধকৌশলের বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনি
ব্যক্ত করেন। আরবসেনাপতি হঠাৎ-ই মুখ বিবর্ণ করে সেখান থেকে প্রস্থান করেন এবং কিছুক্ষণ বাদে তাঁর অসুস্থতার সংবাদ পাঠান।
আরব সেনাপতি দূত মাধ্যমে জানান-
ক) মুর সেনাপতি যেন আহারসামগ্রী গ্রহণ করেন এবং সময়মতো শয়ন করেন।
খ) মুর সেনাপতি যেন অতি প্রত্যুষে প্রস্থান করেন।
গ) একটি দ্রুতগামী তেজস্বী অশ্ব তাঁর জন্যে উপস্থিত থাকবে, তিনি যেন তা ব্যবহার করেন।
যথোপযুক্ত সুব্যবস্থা সত্ত্বেও অতিথিবৎসল আরব সেনাপতির অনুপস্থিতিতে মুর সেনাপতি কিছুটা ক্ষুণ্ণ এবং সন্দিহানচিত্ত হন।
৩.৫ ‘…তাঁহার অনুসরণ করিতেছিল…’-কে, কাকে অনুসরণ করছিলেন? তাঁর এই অনুসরণের কারণ কী?
উত্তরের প্রথমাংশ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিরচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে আরব সেনাপতি মুর সেনাপতিকে অনুসরণ করেছিলেন।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশ: আরব সেনাপতি কথা প্রসঙ্গে জানতে পেরেছিলেন, মুর সেনাপতি হলেন আরব সেনাপতির পিতার হত্যাকারী। শর্তানুসারে পূর্বরাত্রের অতিথিই সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আরব
সেনাপতির কাছে চরমশত্রু রূপে পরিগণিত হয়েছেন। পিতার প্রাণহন্তার শাস্তি দেওয়ার সংকল্পে আরব সেনাপতি মুর সেনাপতিকে অনুসরণ করেছেন।
৪. প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো:
৪.১ ‘যাহাতে আপনি সত্বর প্রস্থান করিতে পারেন, তদ্বিষয়ে যথোপযুক্ত আনুকূল্য করিব।’
উত্তর: বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিরচিত ‘আখ্যানমঞ্জুরী’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত হয়েছে।
অসুস্থ আরব সেনাপতি আশ্রিত মুরসেনাপতির আহার, বিশ্রাম ও প্রভাতে প্রস্থানের যে সুবন্দোবস্ত করেছেন সেই সংবাদ প্রদান প্রসঙ্গে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জানিয়েছেন, ‘কেহ অতিথিভাবে আরবদিগের আলয় উপস্থিত হইলে, তাঁহারা সাধ্যানুসারে তাহার পরিচর্যা করেন’। অতিথি যদি শত্রুও হন তবু বিদ্বেষ পোষণ করেন না। এ হল আরবজাতির নৈতিকতাবোধের পরিচায়ক। মুর সেনাপতিকে আহার-আশ্রয়-পালানোর সমস্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন আরব সেনাপতি। আলোচ্য অংশটিতে আরবসেনাপতির মাধ্যমে আরবজাতির সেই মহানুভবতার পরিচয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
৪.২ ‘এই বিপক্ষ শিবির-মধ্যে, আমা অপেক্ষা আপনকার ঘোরতর • বিপক্ষ আর নাই।’
উত্তর: বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিরচিত ‘আখ্যানমঞ্জুরী’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্প থেকে প্রশ্নোক্ত অংশটি সংকলিত হয়েছে।
আশ্রিত মুরসেনাপতিকে বিদায়দানকালে আরব সেনাপতি উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।
কথাপ্রসঙ্গে আরব সেনাপতি জানতে পেরেছেন যে আশ্রিত মুর সেনাপতিই তাঁর পিতার প্রাণহন্তা। শোনামাত্র তাঁর অন্তরে তীব্র প্রতিশোধ স্পৃহা জাগ্রত হয়েছে। মুর সেনাপতি তাঁর আশ্রিত বলেই শুধুমাত্র তিনি নিজেকে সংযত রেখেছেন। অতিথিকে বিদায়দানকালে ও উদ্ধৃত উক্তিটির দ্বারা তাঁর অন্তরের যে বিতৃষ্ণা তার পরিচয় দিয়েছেন। এই বক্তব্যের দ্বারা তিনি শত্রুপক্ষের সেনাপতিকে শত্রুতা সম্পর্কে সচেতনও করেছেন।
৪.৩ ‘আমাদের জাতীয় ধর্ম এই, প্রাণান্ত ও সর্বস্বান্ত হইলেও, অতিথির অনিষ্ট চিন্তা করি না।’
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আখ্যানমঞ্জুরী’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত হয়েছে।
আশ্রিত মুর সেনাপতিই আরব সেনাপতির পিতার প্রাণহন্তা। কিন্তু আরবজাতি কোনো অবস্থাতেই অতিথি পরিচর্যার ত্রুটি করেন না। তাই মুর সেনাপতি আরব সেনাপতির শিবিরে উপস্থিত হলেও তিনি আহার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি তাঁকে নিরাপদে নিজের শিবিরে পৌঁছে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
উক্তিটির মধ্য দিয়ে আরবজাতির প্রবল নৈতিকতাবোধের পরিচয় হ ফুটে উঠেছে।
৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:
৫.১ গল্পে কার আতিথেয়তার কথা রয়েছে? তিনি কীভাবে অতিথির আতিথেয়তা করেন? তাঁর সেই আতিথেয়তাকে ‘অদ্ভুত’ অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে কেন?
উত্তরের প্রথমাংশ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে আরব সেনাপতির আতিথেয়তার কথা রয়েছে।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশঃ তিনি সাধ্যমতো অতিথির পরিচর্যার চেষ্টা করেছেন। অতিথি শত্রুপক্ষ হলেও কিছুমাত্র অনাদর বা বিদ্বেষ প্রকাশ করেননি। বরং বিরোধিতার কথা ভুলে গিয়ে বন্ধুভাবে কাছে টেনে নিয়েছেন।
উত্তরের তৃতীয়াংশ: আরবজাতি অত্যন্ত অতিথিবৎসল হিসাবে জগতে পরিচিত। আলোচ্য পাঠ্যাংশে তার পরিচয় পাই। আরব সেনাপতি শত্রুপক্ষের আশ্রয়প্রার্থী সেনাপতিকে প্রসন্নচিত্তে অতিথিরূপে গ্রহণ করেছেন।
আশ্রিত মুর সেনাপতিই তাঁর পিতার প্রাণহন্তা- এই তথ্য জানার পরেও আরব সেনাপতি নিজেকে সংযত রেখেছেন। এমনকি অতিথির পরিচর্যায় কোনো ত্রুটি করেননি। আবার অতিথিভাব অন্তর্হিত হলে চরম শত্রুরূপে মুর সেনাপতিকে গণ্য করেছেন। ঘোরতর শত্রুর প্রতি আরব সেনাপতির এইরূপ অস্বাভাবিক ব্যবহারকেই লেখক ‘অদ্ভুত’ আখ্যা দিয়েছেন।
৫.২ আরব-মুর সংঘর্ষের ইতিহাসাশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত এই আখ্যানে লেখকের রচনাশৈলীর অনন্যতার পরিচয় দাও।
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হলেন বাংলা গদ্যের জনক। ‘আখ্যানমঞ্জুরী’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে তিনি আরব-মুর সংঘর্ষের ইতিহাসাশ্রিত কাহিনিকে অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল গদ্যে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। গদ্যকে মনের ভাব প্রকাশের যথার্থ বাহন রূপে ব্যবহার করেছেন। লক্ষণীয় যে-
ক) বিদ্যাসাগরের এই গল্পের ভাষা তৎসম শব্দ সমৃদ্ধ।
খ) সাধু ভাষায় লিখলেও এ ভাষা আন্তরিক ও সুন্দর।
গ) পাহাড়ের ছবি, আরবদের তাঁবু, সেনাপতিদের যাঁরা পূর্বপুরুষ তাঁদের বীরত্ব, দ্রুতগামী অশ্বের বর্ণনা ইত্যাদি অসাধারণ হয়েছে।
ঘ) ইতিহাসের কাহিনি এখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এখানেই লেখকের রচনাশৈলীর অনন্যতা।
৫.৩ ‘আতিথেয়তা বিষয় পৃথিবীর কোনও জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে’। গল্পের ঘটনা বিশ্লেষণ করে মন্তব্যটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে আরব এবং মুরদের মধ্যে সংগ্রাম চলাকালীন পরিস্থিতিতে এক মুর সেনাপতি দিক্ বিভ্রান্ত হয়ে ক্ষুধা-পিপাসা-ক্লান্তিতে আরব সেনাপতির শিবিরে উপস্থিত হন এবং আশ্রয় প্রার্থনা করেন। আরব সেনাপতি সমস্ত দ্বন্দু ভুলে গিয়ে বন্ধুভাবে অতিথিকে আপ্যায়ন করেন এবং সাধ্যমতো পরিচর্যা করেন।
কথাপ্রসঙ্গে জানতে পারেন, আশ্রিত মুর সেনাপতিই তাঁর পিতার হত্যাকারী। তৎসত্ত্বেও আরব সেনাপতি নিজেকে সংযত রেখে এই ঘোরতর শত্রুকে যথোচিত মর্যাদায় পরদিন প্রভাতে বিদায় জানান। এই ঘটনা আরবজাতির অতিথিবাৎসল্যের তুলনাহীন মহিমাকেই প্রতিষ্ঠিত করে।
৫.৪ ‘বন্ধুভাবে উভয় সেনাপতির কথোপকথন হইতে লাগিল।’- কোন্ দুই সেনাপতির কথা এখানে বলা হয়েছে? তাঁদের কীভাবে সাক্ষাৎ ঘটেছিল? উভয়ের কথোপকথনের সারমর্ম নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তরের প্রথমাংশ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পের উদ্ধৃতাংশটিতে মুর সেনাপতি এবং আরব সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশ: ক্ষুধায়-পিপাসায়-ক্লান্তিতে পীড়িত মুর সেনাপতি আরব সেনাপতির শিবিরে উপস্থিত হয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করলে উভয়ের সাক্ষাৎ ঘটে।
উত্তরের তৃতীয়াংশ: সমগ্র গল্পটিতে আরব সেনাপতি ও মুর সেনাপতির দু’বার কথোপকথন রয়েছে। আহার গ্রহণের দ্বারা মুর সেনাপতি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে আরব সেনাপতি তাঁর সঙ্গে আলাপ করেন। উভয়েই নিজের এবং পূর্বপুরুষগণের সাহস, পরাক্রম ও যুদ্ধকৌশলের বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনি পরিবেশন করেন। আরব সেনাপতি জানতে পারেন, মুর সেনাপতি হলেন তাঁর পিতার হত্যাকারী। তিনি তৎক্ষণাৎ নিজেকে সংযত করেন এবং প্রস্থান করেন। কিন্তু অতিথি আপ্যায়নের কোনো ত্রুটি রাখেননি।
শত্রুর প্রতি বিরাগ সত্ত্বেও যথোচিত সম্মানের সঙ্গে তিনি মুর সেনাপতিকে নিজ সেনানিবাসে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেন। আরব সেনাপতি জানান-
আপনি সত্বর প্রস্থান করুন। আমাদের জাতীয় ধর্ম এই, প্রাণান্ত ও সর্বস্বান্ত হইলেও, অতিথির অনিষ্টচিন্তা করি না। শত্রুকে কাছে পেয়েও তাঁকে হত্যা না করে নিজের শিবিরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন আরব সেনাপতি।
৫.৫ ‘তিনি নির্বিঘ্নে স্বপক্ষীয় শিবিরসন্নিবেশ স্থানে উপস্থিত হইলেন।’-কার কথা বলা হয়েছে? কীভাবে তিনি স্বপক্ষের শিবিরে নির্বিঘ্নে পৌঁছলেন? তাঁর জীবনের এই ঘটনার পূর্বরাত্রের অভিজ্ঞতার কথা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তরের প্রথমাংশ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিরচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পের আলোচ্য এই অংশে মুর সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশ: আরব সেনাপতি প্রদত্ত সুস্থ, সবল এবং দ্রুতগামী অশ্বের সহায়তার তিনি স্বপক্ষের শিবিরে নির্বিঘ্নে পৌঁছলেন।
উত্তরের তৃতীয়াংশ: দিবিভ্রান্ত হয়ে ক্ষুধা, পিপাসা ও ক্লান্তিতে অত্যন্ত পীড়িত মুর সেনাপতি আরব সেনাপতির শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। আরব সেনাপতির চরমশত্রুকেও বন্ধুভাবে গ্রহণ এবং সাধ্যমতো সেবাশুশ্রুষা দান তাঁকে মুগ্ধ করে।
আবর সেনাপতির সৌজন্যে আরবজাতির সহনশীলতা ও মহানুভবতার অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতায় তিনি ঋদ্ধ হন।
৫.৬ ‘তাঁহার অনুসরণ করিতেছিলেন…’ কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কাকে অনুসরণ করছিলেন? তাঁর এই অনুসরণ করার কারণ কী? শত্রুকে কাছে পেয়েও তিনি ‘বৈরসাধন সংকল্প’ সাধন করেননি কেন?
উত্তরের প্রথমাংশ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিরচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পের আলোচ্য অংশে আরব সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশ: তিনি মুর সেনাপতিকে অনুসরণ করছিলেন। উত্তরের তৃতীয়াংশ: পিতার প্রাণহন্তার বিনাশ সাধন তথা প্রতিশোধস্পৃহাই এই অনুসরণের কারণ।
উত্তরের চতুর্থাংশ: শত্রু মুর সেনাপতি অত্যন্ত পীড়িত অবস্থায় তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। অতিথির অনিষ্ট চিন্তাকে আরবজাতি গর্হিত কর্ম বলে মনে করেন। তাঁদের অতিথিবাৎসল্যহৃদয় সর্বজনবন্দিত। আশ্রিতের প্রতি যথার্থ মর্যাদাপ্রদানের কারণেই তিনি শত্রুকে কাছে পেয়েও ‘বৈরসাধন সংকল্প’ সাধন করেননি।
এই Post টো Update কৰাত সহায় কৰিব বিচাৰে নেকি?
ইয়াত কিবা ভুল, অসম্পূৰ্ণ তথ্য বা নতুন তথ্য থাকিলে আপুনি এটা উন্নত version প্ৰস্তুত কৰিব পাৰে। Live Post তৎক্ষণাৎ সলনি নহ'ব।
Update This Post